ঢাকা , শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬ , ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​আমি জোর-জবরদস্তি করে কিছুই করিনি: কাফি

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৭-০৭-২০২৬ ০৫:২৯:০২ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৭-০৭-২০২৬ ০৬:৫৫:৩৭ অপরাহ্ন
​আমি জোর-জবরদস্তি করে কিছুই করিনি: কাফি ​ছবি: সংগৃহীত
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা নুরুজ্জামান কাফি খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জমি দখল করে চলাচলের একটা পথের জন্য সড়ক নির্মাণ করার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুর রহিমের দাবি অন্তত সাতদিন আগে রাতের আধারে ওই চলাচলের পথটি করেছেন কাফি। ওই জমির পেছনে কাফির নিজের জমি রয়েছে। শুনেছেন, কাফি নাকি ছয় শতক জমি বায়না করেছেন। তাই চলাচলের জন্য এই পথ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বিদ্যালয়ের এই জমি নিয়ে স্থানীয় সালাহউদ্দিন নয়ন পাহলোয়ানদের সঙ্গে বিদ্যালয়ের মামলা চলমান রয়েছে। এই মুহূর্তে জমি দখল কিংবা শ্রেণি পরিবর্তন সঠিক নয় বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন।

কন্টেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে বলেছেন, তিনি রাতে নয়, দিনের বেলা চলাচলের জন্য ওই পথটি করেছেন। তিনি কোন অন্যায় করেননি। বিষয়টি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরপাক খাচ্ছে। 

কাফি কলাপাড়ার টিয়াখালী ইউনিয়নের রজপাড়া গ্রামের মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত সুপার মো. হাবিবুর রহমানের ছেলে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র সংগঠক হিসেবে ব্যাপক আলোচিত ছিলেন। পরে ২০২৬ সালের এপ্রিলে ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দেন। এখন তিনি এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বলে জানা গেছে। 

খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) আবদুর রহিম জানান, বিদ্যালয়ের নিজস্ব মালিকানাধীন ২১ একর ৭৬ শতক জমি ভোগদখলে রয়েছে। যার মৌজা রজপাড়া, বিএস খতিয়ান নম্বর-১২। ১৪৩২ সাল পর্যন্ত খাজনাদি পর্যন্ত পরিশোধ করা রয়েছে। ২০১৮ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়। তখন বিধি অনুসারে সকল জমি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের নামে দলিল হস্তান্তরিত হয়। জমির মালিকানার বিরোধ নিয়ে প্রায় ৩০ বছর আগে ওখানকার আব্দুর জব্বার গংদের সঙ্গে মামলা চলমান রয়েছে। যা বর্তমানে উচ্চ আদালতে স্থানীয় সালাউদ্দিন নয়ন পাহলোয়ানদের সঙ্গে দীর্ঘ বছর চলমান রয়েছে। উচ্চ আদালত নয়নদের পক্ষে একটা রায় দিয়েছেন। ওই রায় পুনঃর্বিবেচনার জন্য সিভিল রিভিউ পিটিশন (২৪৬/২০২৫) আবেদন করায় সেটা এখনও চলমান। এরইমধ্যে কফি নয়নদের কাছ থেকে ৬ শতাংশ জমি কিনেছেন দাবি করে দখল করে রাস্তা নির্মাণ করেছেন। যা সম্পূর্ণ অবৈধ বলে দাবি প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিমের। তিনি এ বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা সংবলিত কাগজপত্র কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং কলাপাড়া থানায় দাখিল করেছেন। 

নয়ন পাহলান গণমাধ্যমকে জানান, তার দাদা মোবারক পঞ্চায়েতের সঙ্গে ২৯ একর জমি নিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রায় ৩০ বছর ধরে মামলা চলমান ছিল। প্রথম পটুয়াখালী আদালত এবং পরে ২০২৫ সালে হাইকোর্ট থেকে তারা তাঁদের পক্ষে রায় পেয়েছেন। নুরুজ্জামান কাফির জমিতে যাতায়াতের জন্য তাকে ৬ শতক জমি বায়না চুক্তির মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। তারা কোন ভুল করেননি বলে দাবি করে আসছেন। 

এ বিষয়ে এনসিপি নেতা নুরুজ্জামান কাফি গণমাধ্যমে বলে আসছেন, আমি ৩০ লাখ টাকায় বিদ্যালয়ের জমির পেছনে একটি জমি কিনেছি। সেখানে চলাচলের কোনো পথ নেই। এ জন্য প্রধান শিক্ষককে বলেছিলাম। তিনি রাজি হননি। নয়ন পাহলানরা আদালতের রায় পাওয়ার পর মৌখিক বায়নায় তাদের কাছ থেকে ৬ শতক জমি নিয়ে চলাচলের রাস্তা করেছেন। রাতে নয়, দিনেই তিনি এই পথের জন্য ছোট্ট সড়কটি করেছেন। পোড়া কয়লা ও বালু এনে তিনি পথটুকু করেছেন। এখানে জোর-জবরদস্তির কিছু নেই। আমি এমন কোন প্রভাবশালী ব্যক্তিও নই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম জানান, আদালতের নির্দেশনামতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ওখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় উভয়পক্ষকে যথাযথ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ বিষয়টি বিজ্ঞ আদালতকে অবহিত করা হবে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশনার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। 

বাংলা স্কুপ/প্রতিনিধি/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ